চুলের সুস্থতায় সতর্ক দৃষ্টি রাখুন

এই কর্মব্যস্ত জীবনধারায় চুলের যত্ন করা আমাদের হয়েই ওঠে না! কেনো যেনো আমরা  চুলের সুস্থতা নিয়ে কিছুটা উদাসীন মনোভাব পোষণ করি। যেটা এর স্বাভাবিক সৌন্দর্য্য এবং বৃদ্ধিকে ব্যাহত করে। প্রতিদিনের দূষণ থেকে রক্ষা পেতে চুলকে পরিষ্কার রাখা একান্তই প্রয়োজন। কেননা বাইরের ধূলাবালি ও দূষণের কারণে চুলের ব্যাপক ক্ষতি সাধিত হয়। খুব অল্প সময়ে চুলকে পরিষ্কার রাখতে আমরা শ্যাম্পু ব্যবহার করে থাকি। অথচ আমরা  অনেকেই জানি না কিভাবে শ্যাম্পু ব্যবহার করলে তা ফলপ্রসূ হয়!

চলুন ঝট করে জেনে নেই শ্যাম্পু করার কিছু প্রয়োজনীয় টিপস:

চুল ভেঙে যাওয়ার হাত থেকে রক্ষা করতে হলে শ্যাম্পু করার পূর্বে চুল ভালভাবে ভিজিয়ে নিন। শ্যাম্পু সরাসরি চুলে না লাগিয়ে আগে হাতের তালুতে ঘষে নিন। তারপর সারা চুলে উক্ত শ্যাম্পু ব্যবহার করুন। পুরো চুলে ফেনা করা হয়ে গেলে ৩০ সেকেন্ডের মধ্যেই চুল ধুয়ে ফেলুন। বেশিক্ষণ চুলে শ্যাম্পু লাগিয়ে রাখা চুলের স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর।

চলুন ঝট করে জেনে নেই শ্যাম্পু করার কিছু প্রয়োজনীয় টিপস:

শ্যাম্পু করার পর উষ্ণ পানি ব্যবহার করা উচিৎ নয়। কেননা, ঠান্ডা পানি দিয়ে চুল ধুলে ত্বকের স্বাভাবিক আর্দ্রতা দীর্ঘস্থায়ী হয়।

চুল পুরোপুরি না শুকানোর আগ পর্যন্ত চুল আচরাবেন না। ভেজা চুল আচড়ালে চুল পড়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে! যদি চুলে কালার করে থাকেন তবে কমপক্ষে ৪৮ ঘন্টা পরে শ্যাম্পু ব্যবহার করুন। এতে কালার দীর্ঘস্থায়ী হবে এবং চুলের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি পাবে।

ত্বকের স্বাভাবিক আর্দ্রতা দীর্ঘস্থায়ী হয়

আপনি যদি চুল ঠিক রাখতে অধিক হারে কন্ডিশনার, হেয়ার স্প্রে ইত্যাদি প্রসাধনী এবং চুল শুকাতে হেয়ার ড্রাইয়ার ব্যবহার করেন তবে চুলের pH কমে গিয়ে ক্ষতি হতে পারে। এজন্য সপ্তাহে একবার শ্যাম্পুর সাথে ১ টেবিল চামচ খাবার সোডা মিশিয়ে নিন। তাহলে চুল শুষ্ক হবে না এবং চুলের মসৃণতা বৃদ্ধি পাবে।

হেয়ার ব্যান্ড ব্যবহার করার ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করুন। নমনীয় রাবার ব্যান্ড ব্যবহার করুন। এতে চুলের উপর চাপ কমবে এবং চুল পড়া রোধ হবে। সময় পেলে শ্যাম্পু করার আধা ঘন্টা আগে মেয়োনিজ দিয়ে চুলকে কন্ডিশন করে নিন। এতে চুল সন্দর ও ঝরঝরা থাকবে।

চুলে শ্যাম্পু করার ঘন্টাখানেক পূর্বে চুলের গোড়ায় তেল ব্যবহার করুন। এরপর গরম পানিতে তোয়ালে ভিজিয়ে মিনিট দশেক সেই তোয়ালে কিছুক্ষণ মাথায় পেঁচিয়ে রাখুন৷ এবং সবশেষে উপরোক্ত উপায়ে শ্যাম্পু করুন।

পুরুষের ত্বকের উপযোগী কয়েকটি তেল

মাথার ত্বকের যত্নে তেলের ভূমিকা অনস্বীকার্য। নারী পুরুষ উভয়ের চুলের যত্নে তেল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং উপকারী। এছাড়া এখন গরমের যে তীব্রতা দেখা দিয়েছে তা থেকে রক্ষা পেতে হলেও তেলের প্রয়োজনীয়তা ব্যাপক।

এখন আসুন জেনে নেওয়া যাক কয়েকটি তেল সম্পর্কে প্রয়োজনীয় অজানা কিছু তথ্যঃ

নারিকেল তেল

১. নারিকেল তেলঃ চুলে তেল দেওয়ার কথা মনে পরতেই সবার আগে মনে পড়ে নারিকেল তেলের কথা৷ কেননা আমাদের দেশে নারিকেল তেল বহুল প্রচলিত। এই তেল সবধরনের চুলের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। চুলের বৃদ্ধি ত্বরান্বিত করে। চুলের শুষ্কতা দূর করে। খুশকি সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে সাহায্য করে।

২. অ্যাভোকাডো তেলঃ যাদের প্রচুর চুল পড়ছে, চুলের আগা ক্রমেই ভেঙে যাচ্ছে এবং চুলে স্তর পড়ছে তাদের এসব সমস্যা সমাধানের উপায় আছে অ্যাভোকাডো তেলে। এই তেলকে বলা হয় লাইট অয়েল কেননা এই তেল খুবই হালকা এবং মসৃণ। এতে রয়েছে ভিটামিন এ, বি, ডি, ই আর প্রচুর পরিমাণে পুষ্টিগুণ। এছাড়াও রয়েছে আয়রন, ফলিক এসিড ও অ্যামাইনো এসিড। চুলের উপরোক্ত সমস্যা সমাধানে অ্যাভোকাডো তেলের ভূমিকা অনেক।

অ্যাভোকাডো তেল

৩. আমন্ড তেলঃ আমন্ড অয়েল বা বাদাম তেল চুলের ময়লা, ধুলোবালি দূর করে চুলকে সুন্দর ও স্বাস্থ্যজ্জ্বল করে তোলে। যাদের সারাক্ষণ বাইরে বাইরে কাজ করতে হয় এবং সারাক্ষণ কড়া রোদ ও ধূলোময়লার সংস্পর্শে থাকতে হয় তারা নিঃসন্দেহে বেছে নিতেজোজোবা তেল পারেন আমন্ড অয়েল।

৪. জোজোবা তেলঃ যাদের চুল শুষ্ক, চুলে অযথা জট লাগে, খুশকি সমস্যা প্রকট তাদের জন্য উপযোগী তেল হলো জোজোবা তেল। এই তেল চুলের শুষ্কতা দূর করে চুলকে করবে কমনীয় এবং ঝরঝরে।

৫. অলিভ তেলঃ যাদের চুল নমনীয় নয় তাদের চুলের উপযোগী অলিভ তেল। এই তেল চুল কন্ডিশনিং এর কাজ করে থাকে। চাইলে কন্ডিশনারের বদলে ব্যবহার করতে পারেন জলপাই তেল। এই তেলে কোনোরূপ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই। মাথার ত্বকের জন্য এই তেল বেশ কার্যকরী।

পেঁয়াজের কয়েকটি কার্যকরী হেয়ার প্যাক

চুল পড়া সমস্যা সবারই হয়ে থাকে৷ এ থেকে মুক্তি পেতে কেমিক্যাল এড়িয়ে প্রাকৃতিক উপায় অবলম্বন করলে বেশি ভালো ফল পাওয়া সম্ভব৷ এক্ষেত্রে পেঁয়াজের রস ব্যবহার করতে পারেন। পেঁয়াজের রসে আছে প্রচুর পরিমাণে সালফার যা চুল পড়া রোধ করে এবং নতুন চুল গজাতে সাহায্য করে।

চলুন তবে জেনে নেওয়া যাক পেঁয়াজের কয়েকটি কার্যকরী হেয়ার প্যাক সম্পর্কেঃ

মধু ও পেঁয়াজের রস

১. পেঁয়াজের রসঃ পেঁয়াজের রস এমন একটি উপাদান যেটা আপনারা চাইলেই সরাসরি ব্যবহার করতে পারবেন। এক্ষেত্রে ২/৩ টা বড় পেঁয়াজ ব্লেন্ডারে ব্লেন্ড করে রস বের করে নিন। এবার এই রস মাথার ত্বকে সুন্দর করে লাগিয়ে ৩০ মিনিট পরে শ্যাম্পু দিয়ে চুল ধুয়ে ফেলুন। এই প্যাকটি নিয়মিত ব্যবহার করলে চুল পড়া কমে আসবে।

২. মধু ও পেঁয়াজের রসঃ ২ চা চামচ পেঁয়াজের রসের সাথে ১ চা চামচ লেবুর রস মিশিয়ে প্যাক তৈরি করুন। এই প্যাকটি আপনি খেলেও উপকার পাবেন। প্যাকটি পুরো মাথার ত্বকে ম্যাসাজ করে ১০ মিনিট পরে শ্যাম্পু করে ফেলুন। সুস্থ ও সুন্দর চুল পেতে সপ্তাহে ২ বার ব্যবহার করতে পারেন।

৩. পেঁয়াজের রস ও তেলঃ ৩ চা চামচ পেঁয়াজের রসের সাথে ১ চা চামচ অলিভ অয়েল ও নারিকেল তেল মিশিয়ে প্যাক তৈরি করুন। এই প্যাকটি পুরো চুলে লাগিয়ে ৩০ মিনিট পরে শ্যাম্পু করে ফেলুন। ভালো ফল পেতে সপ্তাহে অন্তত তিনদিন ব্যবহার করুন। শুষ্ক চুলের সমস্যা সমাধানে এই প্যাকটি কার্যকরী।

চুলের যত্নে পেঁয়াজের রস

৪. লেবু ও পেঁয়াজের রসঃ ৩ চা চামচ পেঁয়াজের রসের সাথে ২ চা চামচ লেবুর রস মিশিয়ে প্যাক তৈরি করুন। এই প্যাকটি মাথার ত্বকে আলতো করে ম্যাসাজ করুন। ভালো ফল পেতে সপ্তাহে অন্তত দুইদিন ব্যবহার করুন। এই প্যাকটি চুলের খুশকির প্রবণতা দূর করবে এবং নতুন চুল গজাতে সাহায্য করবে।

৫. আপেল ও পেঁয়াজের রসঃ ২ চা চামচ পেঁয়াজের রসের সাথে ২ চা চামচ আপেলের রস মিশিয়ে প্যাক তৈরি করুন। এই প্যাকটি মাথার ত্বকে লাগিয়ে ২০ মিনিট পরে শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। মাথার ত্বকের মৃত কোষ এবং খুশকি সমস্যার সমাধান নিশ্চিত করতে এই প্যাকটি আদর্শ ভূমিকা পালন করবে।

চুলের যত্নে পেঁয়াজের রস

রোজকার নানান ব্যস্ততায় চুলের যত্ন একদমই নেওয়া হয়ে ওঠে না। চুলের যত্নে ঘরোয়া সমাধান পেতে চাইলে ব্যবহার করতে পারেন পেঁয়াজের রস। পেঁয়াজের রস চুলের নানাবিধ সমস্যা থেকে মুক্তি দেবে।

আসুন চুলের যত্নে কিভাবে পেঁয়াজের রস ব্যবহার করবেন তা জেনে নেওয়া যাকঃ

চুলের বৃদ্ধি ত্বরান্বিত করতে

১. খুশকি দূর করতেঃ ২ চা চামচ মেথি আগের রাতে ভিজিয়ে রাখুন। পরদিন মিহি করে বেটে নিন, এবার এই মিশ্রণে ২ চা চামচ পেঁয়াজের রস মিশিয়ে প্যাক তৈরি করুন। এই হেয়ার প্যাকটি মাথার ত্বকে লাগিয়ে আধা ঘন্টা পরে ঠান্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। সপ্তাহে অন্তত একদিন ব্যবহার করলে খুশকি দূর হবে।

২. চুলের বৃদ্ধি ত্বরান্বিত করতেঃ ৩ চা চামচ পেঁয়াজের রসের সাথে ২ চা চামচ অ্যালোভেরা জেল মিশিয়ে প্যাক তৈরি করুন। এই হেয়ার প্যাকটি মাথার ত্বকে লাগিয়ে ম্যাসাজ করুন। মিনিট দশেক পরে ধুয়ে ফেলুন। সপ্তাহে অন্তত দুইদিন ব্যবহার করলে ভালো ফল পাবেন। এই প্যাকটি মাথার ত্বকের চুলকানি দূর করবে, চুলকে বাড়ন্ত করবে।

৩. চুলকে সতেজ করতেঃ ১ চা চামচ পেঁয়াজের রসের সাথে ২ চা চামচ সবুজ কলাই পাউডার মিশিয়ে প্যাক তৈরি করুন। এই হেয়ার প্যাকটি পুরো চুলে লাগিয়ে রাখুন। শুকিয়ে গেলে পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। এই প্যাকটি সপ্তাহে ২ বার ব্যবহার করলে চুল নবজন্ম লাভ করবে। চুল হয়ে উঠবে চনমনে।

চুলকে উজ্জ্বল করতে

৪. চুলকানি কমাতেঃ ১ চা চামচ লেবুর রসের সাথে ১ চা চামচ পেঁয়াজের রস মিশিয়ে প্যাক তৈরি করুন। এই হেয়ার প্যাকটি মাথার ত্বকে লাগিয়ে ২৫ মিনিট পরে ধুয়ে ফেলুন। সপ্তাহে অন্তত তিনদিন ব্যবহার করলে মাথার ত্বকে যদি চুলকানির সমস্যা থাকে তবে তা দূরীভূত হবে এবং খুশকি সমস্যার সমাধানও হয়ে যাবে।

৫. চুলকে উজ্জ্বল করতেঃ ৩ চা চামচ পেঁয়াজের রসের সাথে ১ চা চামচ অলিভ অয়েল মিশিয়ে প্যাক তৈরি করুন। প্যাকটি পুরো চুলে ও মাথার ত্বকে লাগিয়ে গরম তোয়ালে দিয়ে কিছুক্ষণ মাথা পেঁচিয়ে রাখুন। এরপর শ্যাম্পু দিয়ে মাথা ধুয়ে ফেলুন। সপ্তাহে অন্তত একদিন ব্যবহার করলে চুলের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি পাবে। চুল হয়ে উঠবে শক্ত ও মজবুত।

৬. চুলের আদ্রতা ধরে রাখতেঃ ৩ চা চামচ পেঁয়াজের রসের সাথে ৫ চা চামচ নারিকেল তেল ও ১ চা চামচ লেবুর রস মিশিয়ে প্যাক তৈরি করুন। প্যাকটি মাথার ত্বকে লাগিয়ে আধাঘন্টা পরে শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। সপ্তাহে অন্তত দুইদিন ব্যবহার করলে চুলের স্বাভাবিক আদ্রতা বজায় থাকবে। চুল হবে সতেজ ও সুন্দর।

চুলের যত্নে মেহেদী

হাত রাঙাতে যেমন মেহেদী কার্যকরী ঠিক তেমনি চুলের যত্নেও মেহেদী আদর্শ ভূমিকা পালন করে থাকে। নতুন চুল গজাতে, চুলের বৃদ্ধি ত্বরান্বিত করতে, চুল রাঙাতে, খুশকি দূর করতে এবং চমৎকার স্বাস্থ্যোজ্জ্বল চুল পেতে মেহেদী অত্যন্ত কার্যকরী। গাছের পাতা মেহেদী ছাড়াও এখন ঝামেলা এড়াতে গুঁড়ো মেহেদী কিনে ব্যবহার করতে পারেন।

চলুন জেনে নেওয়া যাক চুলের যত্নে কিভাবে মেহেদী ব্যবহার করতে পারবেনঃ

নতুন চুল গজাতেঃ

১. নতুন চুল গজাতেঃ চুলের ঘনত্ব বাড়াতে চাইলে শতভাগ আস্থা রাখতে পারেন মেহেদীর ওপর। ঘনকালো চুল পেতেও মেহেদী সাহায্য করে থাকে। ১ কাপ বাটা মেহেদীর সাথে ২ চা চামচ নারিকেল তেল ও সমপরিমাণ টকদই মিশিয়ে প্যাক তৈরি করুন। এই হেয়ার প্যাকটি ১ ঘন্টা রেখে চুল ধুয়ে ফেলুন। সুন্দর ঘন কালো চুল পেতে মাসে অন্তত দুইদিন ব্যবহার করুন।

২. রুক্ষতা দূর করতেঃ ১ কাপ পরিমাণ বাটা মেহেদীর সাথে ১ টি ভিটামিন ই ক্যাপসুল ও ২ চা চামচ অলিভ অয়েল মিশিয়ে প্যাক তৈরি করুন। এই প্যাকটি চুলে লাগিয়ে ১ ঘন্টা রেখে শ্যাম্পু করে ফেলুন। চুলের রুক্ষতা কমাতে ও চুলের আগা ফাঁটা রোধ করতে এই প্যাকটি বেশ কার্যকরী ভূমিকা পালন করে।

৩. চুল রাঙাতেঃ অনেকেরই হরমোনাল সমস্যার কারণে অল্প বয়সে চুল পেকে যায়। নিয়মিত মেহেদী ব্যবহার করলে এই সাদাটে ভাব কাটিয়ে ওঠা সম্ভব। প্রথমে এক কাপ ফুটন্ত পানিতে ২ চা আমলকী গুঁড়ো, ১ চা চামচ রঙ চা ও দুটো লবঙ্গ এবং পরিমাণ মতো মেহেদী বাটা দিয়ে ঘন প্যাক তৈরি করুন। এই প্যাকটি চুলে লাগিয়ে ঘন্টা দুয়েক পরে ঠান্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। পাকা চুলের সমস্যা মিলিয়ে যাবে।

চুলের  মেহেদী

৪. খুশকি সমস্যা কমাতেঃ সবারই কমবেশি খুশকির মতো সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। এ জাতীয় সমস্যা মোকাবিলায় মেহেদীর সাহায্যে চটজলদি তৈরি করতে পারেন হেয়ার প্যাক। আগের রাতে মেথি ভিজিয়ে রেখে পরদিন বেটে নিন। সরিষার তেল গরম করে তাতে কয়েকটি মেহেদী পাতা ছেড়ে দিন৷ তেল ঠান্ডা হয়ে এলে বাটা মেথি মিশিয়ে প্যাক তৈরি করুন। এই হেয়ার প্যাকটি মাথার ত্বকে লাগিয়ে ঘন্টা দুয়েক পরে শ্যাম্পু করে ফেলুন। খুশকি সমস্যা কমাতে এই প্যাকটি বেশ কার্যকরী।

মেহেদীর কয়েকটি কার্যকরী হেয়ার প্যাক

চুলের নানান সমস্যায় এখনকার তরুণী থেকে বৃদ্ধ সবাই জর্জরিত। চুলের ঠিকঠাক যত্ন না নেওয়ার ফলে চুল পড়া আশংকাজনক হারে বেড়ে যাওয়া সহ আরও অনেক ধরনের সমস্যার কবলে পড়তে হয়। এসব সমস্যা থেকে মুক্তি দেবে মেহেদীর তৈরি হেয়ার প্যাক। ঘরে বসেই বানিয়ে ফেলতে পারেন এসব হেয়ার প্যাক।

চলুন জেনে নেওয়া যাক মেহেদীর তৈরি কয়েকটি কার্যকরী হেয়ার প্যাক সম্পর্কেঃ

চুলের যত্নে মেহেদী

১. মেহেদী ও পাকা কলাঃ বাটা মেহেদীর সাথে পাকা কলা চটকে প্যাক তৈরি করুন। এই প্যাকটি এবার চুলে লাগিয়ে রাখুন না শুকানো পর্যন্ত। শুকিয়ে গেলে শ্যাম্পু করে ফেলুন। এই হেয়ার প্যাকটি ব্যবহারের ফলে চুল হয়ে উঠবে উজ্জ্বল ও কমনীয়।

২. মেহেদী, টকদই ও ডিমঃ একটি ডিমের সাদা অংশের সাথে ২ চা চামচ বাটা মেহেদী ও ১ চা চামচ টকদই মিশিয়ে প্যাক তৈরি করুন। এই হেয়ারপ্যাকটি পুরো চুলে লাগিয়ে ১ ঘন্টা পরে শ্যাম্পু করে ফেলুন। চুলের পুষ্টি নিশ্চিত করতে এই প্যাকটি আদর্শ ভূমিকা পালন করে। এই প্যাকটি চুলকে কন্ডিশনিং করতে সাহায্য করবে।মেহেদীর হেয়ার প্যাক

৩. মেহেদী, জবা, নারকেল তেল ও লেবুর রসঃ ২ চা চামচ মেহেদী বাটার সাথে, ১ টি জবা ফুল বাটা, ২ চা চামচ নারিকেল তেল ও সমপরিমাণ লেবুর রস মিশিয়ে প্যাক তৈরি করুন। এই প্যাকটি পুরো চুলে লাগিয়ে ঘন্টাখানেক পরে শ্যাম্পু করে ফেলুন। এই প্যাকটি চুল পড়া রোধ করবে, চুল কালো করবে, খুশকি সমস্যা কমাবে এবং যাবতীয় ধূলোময়লা থেকে চুলকে রক্ষা করবে।

৪. মেহেদী ও কফি গুঁড়োঃ বাটা মেহেদীর সাথে ২ চা চামচ কফির গুঁড়ো মিশিয়ে প্যাক তৈরি করুন। এই প্যাকটি পুরো চুলে লাগিয়ে ঘন্টা দুয়েক পরে ঠান্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। চুলে লালচে আভা আনতে এই প্যাকটি বেশ কার্যকর। পাকা চুল ঢাকতে এই প্যাকটি বেশ কাজে দিবে।

৫. মেহেদী, নারকেল তেল ও মুলতানি মাটিঃ ২ চা চামচ বাটা মেহেদীর সাথে, ১ চা চামচ নারকেল তেল ও ২ চা চামচ মুলতানি মাটি মিশিয়ে প্যাক তৈরি করুন। এই প্যাকটি পুরো চুলে লাগিয়ে ঘন্টাখানেক রেখে শ্যাম্পু করে ফেলুন। চুল ঝরঝরে, সুন্দর ও পরিষ্কার রাখতে এই হেয়ার প্যাকটি অসাধারণ।

পুরুষদের চুলের কয়েকটি কার্যকরী হেয়ার প্যাক

নারী পুরুষ উভয়ের ত্বক ও চুলের যত্ন নোওয়া উচিৎ। তবে রূপচর্চার কথা উঠলে শুধু নারীরাই সে ব্যাপারে আকর্ষণ অনুভব করে থাকে। অথচ উভয়েরই সমানভাবে রূপচর্চা করা উচিৎ।

আসুন জেনে নেই চুলের যত্নে কিছু হেয়ার প্যাক সম্পর্কেঃ

চুল ও ত্বকের যত্নে জয়তুন তেল

১. আমলকি ও মেহেদীর হেয়ার প্যাকঃ আমলকী ও মেহেদী পাটায় বেঁটে নিন। বাটার সময় পানির পরিবর্তে দুধ ব্যবহার করুন। এবার দুটি উপাকরণ একসাথে মিশিয়ে প্যাক তৈরি করুন। এই হেয়ার প্যাকটি গোসলের ১ ঘন্টা আগে পুরো চুলে লাগিয়ে এরপর শ্যাম্পু করে ফেলুন। আপনার চুল যদি পাতলা হয়ে আসে তবে এই হেয়ার প্যাকটি ব্যবহার করে দেখতে পারেন ভালো ফল পাবেন।

২. পেঁয়াজের রস ও আমলকীর হেয়ার প্যাকঃ প্রথমে পেঁয়াজ ব্লেন্ডারে ব্লেন্ড করে রস বের করে নিন এরপর তাতে আমলকীর রস মিশিয়ে প্যাক তৈরি করুন। এই প্যাকটি মাথার ত্বকে লাগিয়ে ঘন্টাখানেক পরে শ্যাম্পু করে ফেলুন। চুল পড়া রোধে এবং নতুন চুল গজাতে এই প্যাকটি এককথায় আদর্শ।

৩. ডিমের হেয়ার প্যাকঃ একটি ডিমের সাদা অংশের সাথে ১ চা চামচ মধু, লেবু এবং অলিভ অয়েল মিশিয়ে প্যাক তৈরি করুন। এবার প্যাকটি ৩০ মিনিট মতো চুলে লাগিয়ে রেখে তারপর শ্যাম্পু করে ফেলুন। এই প্যাক ব্যবহারের ফলে আপনার চুল হয়ে উঠবে উজ্জ্বল ও সজীব।

৪. পাকা কলার হেয়ার প্যাকঃ একটি পাকা কলার সাথে ১ চা চামচ লেবুর রস ও মধু মিশিয়ে প্যাক তৈরি করুন। এই প্যাকটি না শুকানো পর্যন্ত চুলে লাগিয়ে রাখুন৷ শুকিয়ে গেলে শ্যাম্পু করে ফেলুন। এই হেয়ার প্যাকটি নিয়মিত ব্যবহারের ফলে আপনার চুলেরমেথি, টকদই ও নারিকেল তেল যে রুক্ষ ভাব সেটা ধীরে ধীরে কমে যাবে।

৫. মেথি ও টকদই এর হেয়ার প্যাকঃ যেদিন এই হেয়ার প্যাকটি ব্যবহার করবেন তার আগের রাতে মেথি ভিজিয়ে রাখুন। সকালে মেথি বেটে তাতে পরিমাণ মতো টকদই মিশিয়ে প্যাক তৈরি করুন। এই প্যাকটি চুলে লাগিয়ে না শুকানো পর্যন্ত অপেক্ষা করুন। শুকিয়ে গেলে শ্যাম্পু করে ফেলুন। এই হেয়ার প্যাকটি চুলকে নরম এবং উজ্জ্বল করতে সাহায্য করবে।

ত্বক ও চুলের যত্নে বেসন

চুল ও ত্বকের জন্য বেসন খুবই উপকারী। ত্বকের যত্নে বেসনের তুলনা নেই। ঠিক তেমনি বেসন চুলের যত্নেও বেশ উপকারি। বহুকাল ধরেই বেসন ত্বক ও চুলের বিভিন্ন সমস্যায় ব্যবহৃত হয়ে আসছে। বেসনের মধ্যে রয়েছে অনেক স্বাস্থ্যকর উপাদান যেগুলো চুলকে যেমন মজবুত এবং স্বাস্থ্যকর করে তোলে ঠিক তেমনি ত্বককে করে তোলে আরো আকষণীয় । এছাড়া চুলের বৃদ্ধি, চুল পড়া বন্ধ, চুলকে পরিষ্কার রাখা, প্রাকৃতিক কন্ডিশনার হয়ে কাজ করে, খুশকি থেকে রক্ষা করে বেসন।ত্বক ও চুলের যত্নে বেসন

ত্বকের যত্নে বেসন

প্রাচীনকালে রমণীরা এখনকার মতো এতো সহজলভ্য প্রসাধনী সামগ্রী ব্যবহারের সুযোগ পেতো না। তাদের ভরসা ছিল ভেষজ উদ্ভিদ এবং রান্নার বিভিন্ন সামগ্রীর ওপরে। এসব উপকরণকে তারা রুপচর্চায় ব্যবহার করতো এবং ভালো ফলও পেতো। আমরা বাঙালীরা যেহেতু ভাজাপোড়া বেশি পছন্দ করি তাই কমবেশি সকলের রান্নাঘরেই মিলবে বেসনের খোঁজ! ত্বক এবং চুলের যত্নে বেসনের ভূমিকা অনস্বীকার্য! বেসন ত্বকের মৃত কোষগুলো দূরীভূত করে ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি করে। নিয়মিত বেসনের ফেইসপ্যাক ব্যবহারের মাধ্যমে ত্বক ফর্সা ও টানটান হয় এবং অবাঞ্ছিত লোমসমূহ দূরীকরণ করা সহজ হয়। চলুন জেনে নেই ত্বকের যত্নে কিভাবে বেসন ব্যবহার করে সুফল লাভ করতে পারবেন।

ত্বক যত্নে বেসন s

ত্বকের যত্নে বেসনের কয়েকটি প্যাকঃ

রোদে পুড়ে মুখে যে কালচে ভাব হয় তা দূরীকরণে বেসন বেশ ভালো ভূমিকা রাখে। ৪ চা চামচ বেসনের সাথে ১ চা চামচ লেবুর রস এবং ১ চা চামচ টক দই মিশিয়ে একটি মিশ্রণ তৈরি করুন। এবার এই মিশ্রণটি মুখে এবং ঘাড়ে লাগিয়ে না শুকানো পর্যন্ত অপেক্ষা করুন। শুকালে ঠান্ডা পানি দিয়ে ভালোমতো ধুয়ে ফেলুন। এটি ত্বককে নরম এবং উজ্জ্বল করবে। ভালো ফল পেতে সপ্তাহে চার পাঁচ দিন ব্যবহার করুন।

ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি করতে ৪ চা চামচ বেসনের সাথে ১ চা চামচ লেবু এবং ১ চা চামচ কাঁচা দুধ একসাথে মিশিয়ে সহজ উপায়ে স্ক্রাব তৈরি করতে পারেন। ত্বকে মাখার পরে শুকোনো পর্যন্ত অপেক্ষা করুন এবং শুকোলে ঠান্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। সপ্তাহে অন্তত একবার ব্যবহার করুন তবে নিজেই সুফল দেখতে পাবেন।

তৈলাক্ত ত্বকের অতিরিক্ত তেল নিরসনে এবং ত্বকের ময়লা দূর করতে নিচের প্যাকটি ভালো ভূমিক রাখবে। ৩ চা চামচ বেসনের সাথে ২ চা চামচ কাঁচা দুধ অথবা ২ চা চামচ টক দই মিশিয়ে মুখে লাগান। ২০ মিনিট পরে ঠান্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।

ব্রণের সমস্যা সমাধানে ব্যবহার করতে পারেন এন্টি পিম্পল বেসন মাস্ক। ২ চা চামচ বেসনের সাথে ২ চা চামচ চন্দন গুঁড়া এবং ১ চা চামচ দুধ মিশিয়ে প্যাক তৈরি করে মুখে লাগান। শুকিয়ে গেলে পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।

ব্রণের কালো দাগ দূর করতে ২ চা চামচ বেসনের সাথে ১ চা চামচ শশার রস এবং ১/২ চা চামচ লেবুর রস মিশিয়ে মুখে লাগান। মিনিট বিশেক রেখে পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। নিয়মিত ব্যবহারে ব্রণের কালচে দাগ আস্তে আস্তে চলে যাবে।

চুলের যত্নে বেসন

চুলের যত্নে বেসন

ঝলমলে দীঘল কালো চুল সব মেয়েদের স্বপ্ন। আমাদের দাদী-নানীরা ত্বক ও চুলের যত্নে ব্যবহার করতেন সহজলভ্য সব উপকরণ আর তাদের মধ্যে বেসন অন্যতম। সুন্দর ও স্বাস্থ্যজ্জল চুল পেতে ব্যবহার করতে পারেন বেসন৷

চুলের যত্নে বেসনের কয়েকটি প্যাকঃ

স্বাস্থ্যকর চুল পেতে ব্যবহার করতে পারেন বেসন দিয়ে তৈরি হেয়ার মাস্ক। একটি পাত্রে ডিমের সাদা অংশ নিন তাতে ২ চা চামচ বেসন, ১ চা চামচ টক দই এবং আধা চা চামচ লেবুর রস মিশিয়ে ঝটপট তৈরি করে ফেলুন হেয়ার মাস্ক। এই মাস্কটি ৩০-৪০ মিনিট চুলে রাখুন এরপর শ্যাম্পু করে ফেলুন। সপ্তাহে অন্তত একবার এই হেয়ার মাস্ক টা ব্যবহার করুন। চুল লম্বা করতে চুলের গোড়া শক্ত হওয়াটা জরুরি! চুলের গোড়া যদি নরম হয় তাহলে চুল পড়া বেড়ে যায় এবং চুলের সৌন্দর্য্য ব্যাহত হয়।

৩ চা চামচ বেসনের সাথে ২ চা চামচ আমন্ড ওয়েল, ৮ চা চামচ টক দই এবং ১ চা চামচ অলিভ ওয়েল মিশিয়ে একটি পেস্ট তৈরি করুন। এই প্যাকটি চুলের গোড়ায় ৪০ মিনিট লাগিয়ে এরপর শ্যাম্পু করে ফেলুন। সপ্তাহে অন্তত দুইবার এই প্যাকটি ব্যবহার করুন।

চুলের শুষ্কতা দূর করতে ৩ চা চামচ বেসনের সাথে ২ চা চামচ আমন্ড ওয়েল, ৮ চা চামচ টক দই, ১ চা চামচ অলিভ ওয়েল এবং ১-২ টি ভিটামিন ই ক্যাপসুল দিয়ে প্যাক তৈরি করে চুলে লাগান। ৩০ মিনিট পরে শ্যাম্পু করে ফেলুন। সপ্তাহে অন্তত একবার এই হেয়ার প্যাক ব্যবহার করুন। চুলের শুষ্কতা দূরীভূত হয়ে চুল হবে ঝলমলে এবং স্বাস্থ্যজ্জল।

চুল পড়া রোধে ১৫ টি টিপস

বর্তমানে ধুলোবালি দূষণের ফলে চুলের মারাত্মক ক্ষতি সাধিত হচ্ছে এবং এর ফলে চুল পড়াও স্বাভাবিকের তুলনায় বৃদ্ধি পাচ্ছে বহুগুণ বেশি!

চুল পড়া রোধে ১৫ টি টিপস

আসুন জেনে নেই চুল পড়া রোধে ১৫ টি উপায়ঃ

১. – গরম পানিতে গোসল করলেও চুল ভেজানো উচিৎ না।

২. – প্রচুর পানি পান করতে হবে দিনে অন্তত ৩/৪ লিটার।

৩. – নিয়মিত ব্যায়াম/যোগব্যায়াম করতে হবে।

৪. – জেনেটিক, হরমোন পরিবর্তন বা মা হওয়ার পরে মাত্রাতিরিক্ত চুল পড়লে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। ভেজা চুলে চিরুনি দিয়ে আঁচড়াবেন না।

৫. – গোড়া শক্ত করে চুল বাঁধবেন না। যথাসম্ভব চুলের গোড়া আলগা রাখুন।

৬. – চুল বেশি পড়লে চুলে তেল দেয়া সাময়িকভাবে বন্ধ করুন।

৭. – মেয়েদের শরীরে আয়রনের ঘাটতি থাকে! তাই আয়রন ট্যাবলেট গ্রহণ করুন, সবুজ এবং হলুদ সবজি ও ফল বেশি করে খাবেন।

৮. – প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার যেমন ডিমের সাদা অংশ, ভেড়ার মাংস, সয়াবিন, দুধ এবং দই চুলের জন্য উপকারী। তাই চুল পড়া বেড়ে গেলে খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন আনুন।
৯. – নিয়মিত চুলে হিট দিলে তা চুলের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। তাই হিট দেয়া বন্ধ করুন।

চুল টিপস

১০. – সূর্যের তাপ থেকে চুলকে বাঁচাতে ওড়না দিয়ে চুল ঢেকে চলুন। আর তাপমাত্রা পরিহার করুন।

১১. – মাথার ত্বকের ওপরে নরম ম্যাসাজ চুলের গোড়ায় রক্ত চলাচল বাড়িয়ে দেয়, যা চুলের জন্য উপকারী।

১২. – অতিরিক্ত চুল আঁচড়াবেন না দিনে অন্তত ২/৩ বার।

১৩. -ওজন কমানোর জন্য অতিরিক্ত ডায়েট কন্ট্রোল চুলের জন্য ক্ষতিকর। তাই ডায়েট করলেও প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার খাওয়ার চেষ্টা করুন।
১৪. – হেয়ার ম্যাসাজ করুন, এতে রক্ত সঞ্চালন স্বাভাবিক থাকবে।
১৫. – মাঝেমধ্যে চুল ট্রিম করুন।

শ্যাম্পু করার প্রয়োজনীয় কিছু টিপস

এই কর্মব্যস্ত জীবনধারায় চুলের যত্ন করা আমাদের হয়েই ওঠে না! কেনো যেনো আমরা চুলের সুস্থতা নিয়ে কিছুটা উদাসীন মনোভাব পোষণ করি। যেটা এর স্বাভাবিক সৌন্দর্য্য এবং বৃদ্ধিকে ব্যাহত করে। প্রতিদিনের দূষণ থেকে চুলকে রক্ষা করতে চুলকে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখা একান্তই প্রয়োজন। কেননা বাইরের ধূলাবালি ও দূষণের কারণে চুলের ব্যাপক ক্ষতি সাধিত হয়। খুব অল্প সময়ে চুলকে পরিষ্কার রাখতে আমরা শ্যাম্পু ব্যবহার করে থাকি। অথচ আমরা অনেকেই জানি না কিভাবে শ্যাম্পু ব্যবহার করলে তা চুলের জন্য ফলপ্রসূ হয়!

চলুন ঝট করে জেনে নেই শ্যাম্পু করার কিছু প্রয়োজনীয় টিপস:

** চুলকে ভেঙে যাওয়ার হাত থেকে রক্ষা করতে হলে শ্যাম্পু করার পূর্বে চুল ভালভাবে ভিজিয়ে নিতে হবে। শ্যাম্পু কখনোই সরাসরি চুলে লাগাবেন না, আগে হাতের তালুতে ঘষে নিন। তারপর সারা চুলে উক্ত শ্যাম্পু ব্যবহার করুন। পুরো চুলে ফেনা করা হয়ে গেলে ৩০ সেকেন্ডের মধ্যেই চুল ধুয়ে ফেলবেন। বেশিক্ষণ চুলে শ্যাম্পু লাগিয়ে রাখা চুলের স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর।

শ্যাম্পু করার প্রয়োজনীয়  টিপস

** শ্যাম্পু করার পর উষ্ণ পানি ব্যবহার করা উচিৎ নয়। কেননা, ঠান্ডা পানি দিয়ে চুল ধুলে ত্বকের স্বাভাবিক আর্দ্রতা দীর্ঘস্থায়ী হয় ও চুল সুন্দর এবং স্বাস্থ্যজ্জ্বল হয়।

** চুল পুরোপুরি না শুকানোর আগ পর্যন্ত চুল আচরাবেন না। ভেজা চুল আচড়ালে চুল পড়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে! যদি চুলে কালার করে থাকেন তবে কমপক্ষে ৪৮ ঘন্টা পরে শ্যাম্পু ব্যবহার করুন। এতে কালার দীর্ঘস্থায়ী হবে এবং চুলের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি পাবে।

** আপনি যদি চুল ঠিক রাখতে অধিক হারে কন্ডিশনার, হেয়ার স্প্রে ইত্যাদি প্রসাধনী এবং চুল শুকাতে হেয়ার ড্রাইয়ার ব্যবহার করেন তবে চুলের pH কমে গিয়ে চুলের ক্ষতি হতে পারে। এ সমস্যা নিরোসনে করতে সপ্তাহে একবার শ্যাম্পুর সাথে ১ টেবিল চামচ খাবার সোডা মিশিয়ে নিন। তাহলে চুল শুষ্ক হবে না এবং চুলের মসৃণতা বৃদ্ধি পাবে।

চুল সন্দর ও ঝরঝরা

** হেয়ার ব্যান্ড ব্যবহার করার ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করুন। নমনীয় রাবার ব্যান্ড ব্যবহার করুন। এতে চুলের উপর চাপ কমবে এবং চুল পড়া রোধ হবে। সময় পেলে শ্যাম্পু করার আধা ঘন্টা আগে মেয়োনিজ কিংবা অ্যালোভেরা দিয়ে চুলকে কন্ডিশন করে নিন। এতে চুল সন্দর ও ঝরঝরা থাকবে।

** চুলে শ্যাম্পু করার ঘন্টাখানেক পূর্বে চুলের গোড়ায় তেল ব্যবহার করুন। এরপর গরম পানিতে তোয়ালে ভিজিয়ে মিনিট দশেক সেই তোয়ালে কিছুক্ষণ মাথায় পেঁচিয়ে রাখুন৷ এবং সবশেষে উপরোক্ত উপায়ে শ্যাম্পু করুন। চুলের সুস্থতায় সতর্ক দৃষ্টি রাখুন।