ত্বক ও চুলের যত্নে বেসন

ত্বক ও চুলের যত্নে বেসন

চুল ও ত্বকের জন্য বেসন খুবই উপকারী। ত্বকের যত্নে বেসনের তুলনা নেই। ঠিক তেমনি বেসন চুলের যত্নেও বেশ উপকারি। বহুকাল ধরেই বেসন ত্বক ও চুলের বিভিন্ন সমস্যায় ব্যবহৃত হয়ে আসছে। বেসনের মধ্যে রয়েছে অনেক স্বাস্থ্যকর উপাদান যেগুলো চুলকে যেমন মজবুত এবং স্বাস্থ্যকর করে তোলে ঠিক তেমনি ত্বককে করে তোলে আরো আকষণীয় । এছাড়া চুলের বৃদ্ধি, চুল পড়া বন্ধ, চুলকে পরিষ্কার রাখা, প্রাকৃতিক কন্ডিশনার হয়ে কাজ করে, খুশকি থেকে রক্ষা করে বেসন।ত্বক ও চুলের যত্নে বেসন

ত্বকের যত্নে বেসন

প্রাচীনকালে রমণীরা এখনকার মতো এতো সহজলভ্য প্রসাধনী সামগ্রী ব্যবহারের সুযোগ পেতো না। তাদের ভরসা ছিল ভেষজ উদ্ভিদ এবং রান্নার বিভিন্ন সামগ্রীর ওপরে। এসব উপকরণকে তারা রুপচর্চায় ব্যবহার করতো এবং ভালো ফলও পেতো। আমরা বাঙালীরা যেহেতু ভাজাপোড়া বেশি পছন্দ করি তাই কমবেশি সকলের রান্নাঘরেই মিলবে বেসনের খোঁজ! ত্বক এবং চুলের যত্নে বেসনের ভূমিকা অনস্বীকার্য! বেসন ত্বকের মৃত কোষগুলো দূরীভূত করে ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি করে। নিয়মিত বেসনের ফেইসপ্যাক ব্যবহারের মাধ্যমে ত্বক ফর্সা ও টানটান হয় এবং অবাঞ্ছিত লোমসমূহ দূরীকরণ করা সহজ হয়। চলুন জেনে নেই ত্বকের যত্নে কিভাবে বেসন ব্যবহার করে সুফল লাভ করতে পারবেন।

ত্বক যত্নে বেসন s

ত্বকের যত্নে বেসনের কয়েকটি প্যাকঃ

রোদে পুড়ে মুখে যে কালচে ভাব হয় তা দূরীকরণে বেসন বেশ ভালো ভূমিকা রাখে। ৪ চা চামচ বেসনের সাথে ১ চা চামচ লেবুর রস এবং ১ চা চামচ টক দই মিশিয়ে একটি মিশ্রণ তৈরি করুন। এবার এই মিশ্রণটি মুখে এবং ঘাড়ে লাগিয়ে না শুকানো পর্যন্ত অপেক্ষা করুন। শুকালে ঠান্ডা পানি দিয়ে ভালোমতো ধুয়ে ফেলুন। এটি ত্বককে নরম এবং উজ্জ্বল করবে। ভালো ফল পেতে সপ্তাহে চার পাঁচ দিন ব্যবহার করুন।

ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি করতে ৪ চা চামচ বেসনের সাথে ১ চা চামচ লেবু এবং ১ চা চামচ কাঁচা দুধ একসাথে মিশিয়ে সহজ উপায়ে স্ক্রাব তৈরি করতে পারেন। ত্বকে মাখার পরে শুকোনো পর্যন্ত অপেক্ষা করুন এবং শুকোলে ঠান্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। সপ্তাহে অন্তত একবার ব্যবহার করুন তবে নিজেই সুফল দেখতে পাবেন।

তৈলাক্ত ত্বকের অতিরিক্ত তেল নিরসনে এবং ত্বকের ময়লা দূর করতে নিচের প্যাকটি ভালো ভূমিক রাখবে। ৩ চা চামচ বেসনের সাথে ২ চা চামচ কাঁচা দুধ অথবা ২ চা চামচ টক দই মিশিয়ে মুখে লাগান। ২০ মিনিট পরে ঠান্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।

ব্রণের সমস্যা সমাধানে ব্যবহার করতে পারেন এন্টি পিম্পল বেসন মাস্ক। ২ চা চামচ বেসনের সাথে ২ চা চামচ চন্দন গুঁড়া এবং ১ চা চামচ দুধ মিশিয়ে প্যাক তৈরি করে মুখে লাগান। শুকিয়ে গেলে পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।

ব্রণের কালো দাগ দূর করতে ২ চা চামচ বেসনের সাথে ১ চা চামচ শশার রস এবং ১/২ চা চামচ লেবুর রস মিশিয়ে মুখে লাগান। মিনিট বিশেক রেখে পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। নিয়মিত ব্যবহারে ব্রণের কালচে দাগ আস্তে আস্তে চলে যাবে।

চুলের যত্নে বেসন

চুলের যত্নে বেসন

ঝলমলে দীঘল কালো চুল সব মেয়েদের স্বপ্ন। আমাদের দাদী-নানীরা ত্বক ও চুলের যত্নে ব্যবহার করতেন সহজলভ্য সব উপকরণ আর তাদের মধ্যে বেসন অন্যতম। সুন্দর ও স্বাস্থ্যজ্জল চুল পেতে ব্যবহার করতে পারেন বেসন৷

চুলের যত্নে বেসনের কয়েকটি প্যাকঃ

স্বাস্থ্যকর চুল পেতে ব্যবহার করতে পারেন বেসন দিয়ে তৈরি হেয়ার মাস্ক। একটি পাত্রে ডিমের সাদা অংশ নিন তাতে ২ চা চামচ বেসন, ১ চা চামচ টক দই এবং আধা চা চামচ লেবুর রস মিশিয়ে ঝটপট তৈরি করে ফেলুন হেয়ার মাস্ক। এই মাস্কটি ৩০-৪০ মিনিট চুলে রাখুন এরপর শ্যাম্পু করে ফেলুন। সপ্তাহে অন্তত একবার এই হেয়ার মাস্ক টা ব্যবহার করুন। চুল লম্বা করতে চুলের গোড়া শক্ত হওয়াটা জরুরি! চুলের গোড়া যদি নরম হয় তাহলে চুল পড়া বেড়ে যায় এবং চুলের সৌন্দর্য্য ব্যাহত হয়।

৩ চা চামচ বেসনের সাথে ২ চা চামচ আমন্ড ওয়েল, ৮ চা চামচ টক দই এবং ১ চা চামচ অলিভ ওয়েল মিশিয়ে একটি পেস্ট তৈরি করুন। এই প্যাকটি চুলের গোড়ায় ৪০ মিনিট লাগিয়ে এরপর শ্যাম্পু করে ফেলুন। সপ্তাহে অন্তত দুইবার এই প্যাকটি ব্যবহার করুন।

চুলের শুষ্কতা দূর করতে ৩ চা চামচ বেসনের সাথে ২ চা চামচ আমন্ড ওয়েল, ৮ চা চামচ টক দই, ১ চা চামচ অলিভ ওয়েল এবং ১-২ টি ভিটামিন ই ক্যাপসুল দিয়ে প্যাক তৈরি করে চুলে লাগান। ৩০ মিনিট পরে শ্যাম্পু করে ফেলুন। সপ্তাহে অন্তত একবার এই হেয়ার প্যাক ব্যবহার করুন। চুলের শুষ্কতা দূরীভূত হয়ে চুল হবে ঝলমলে এবং স্বাস্থ্যজ্জল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *