চুলের যত্নে লেবু

চুলের যত্নে আমরা বিভিন্ন ধরনের ক্যামিকাল জাতীয় জিনিস ব্যবহার করে থাকি! কিন্তু এসব ছাড়াও যে প্রাকৃতিক উপায়ে চুলকে সুন্দর করা যায় সে সম্পর্কে আমরা অনেকেই সঠিক জ্ঞান রাখিনা! চুলের যত্নের কথায় প্রথমেই আসে অত্যন্ত সহজলভ্য উপাদান লেবুর কথা! লেবুতে আছে ভিটামিন সি, সাইট্রিক এসিড, ক্যালসিয়াম ও ম্যাগনেসিয়াম। অনেকেই একটা বদ্ধমূল ধারণা নিয়ে থাকেন যে লেবু চুলকে শুষ্ক করে তোলে যা একেবারেই ভুল ধারণা!

আসুন জেনে নেওয়া যাক চুলের যত্নে লেবুর ব্যবহারবিধি সম্পর্কেঃ

১. মেহেদী, ডিম এবং লেবুর রসঃ একটি পাত্রে ৫ চা চামচ মেহেদী গুঁড়োর সাথে একটি ডিম ভালো করে ফেটে নিন এবার অর্ধেক পরিমাণ লেবুর রস তাতে মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করুন। এই পেস্টটি স্ক্যাল্পসহ পুরো চুলে সুন্দরমতো লাগিয়ে শুকানো পর্যন্ত অপেক্ষা করুন। শুকিয়ে গেলে শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।

২. ক্যাস্টর অয়েল, অলিভ অয়েল এবং লেমন অ্যাসেনশিয়াল অয়েলঃ ১ চা চামচ ক্যাস্টর অয়েলের সাথে ২ চা চামচ অলিভ অয়েল এবং ৪/৫ ফোঁটা লেমন অ্যাসেনশিয়াল অয়েল একসাথে মিশিয়ে গরম করে নিন। এবার মিনিট ১৫ মতো পুরো স্ক্যাল্পে মাসাজ করুন। ৩০ মিনিট পরে ঠান্ডা পানি দিয়ে শ্যাম্পু করে ফেলুন। এই প্যাক দুটি মাসে অন্তত ২/৩ বার ব্যবহার করলে চুলের বৃদ্ধি ত্বরান্বিত হবে।

চুলের যত্নে লেবুর হেয়ার প্যাক

৩. চা পাতা এবং লেবুর রসঃ একটি পাত্রে আধা কাপ পরিমাণ গরম পানিতে ২ চা চামচ চা পাতা ঘন করে জ্বাল দিয়ে লিকার তৈরি করুন। একটু ঠান্ডা হয়ে এলে তাতে ১ চা চামচ লেবুর রস মিশিয়ে নিন। কুসুম গরম থাকা অবস্থায় তুলা দিয়ে পুরো স্ক্যাল্পে লাগিয়ে ফেলুন। মিনিট বিশেক পরে ঠান্ডা পানি দিয়ে শ্যাম্পু করে ফেলুন।

৪. লেবুর রস এবং মেথিঃ একটি পাত্রে ২ চা চামচ মেথি সারারাত পানিতে ভিজিয়ে রাখুন। সকালে ভিজিয়ে রাখা মেথি এবং লেবুর রস ভালো মতো ব্লেন্ড করে পেস্ট তৈরি করে নিন। এই পেস্টটি পুরো স্ক্যাল্পে ৩০ মিনিট মতো লাগিয়ে তারপর শ্যাম্পু করে ফেলুন। এই দুটি প্যাক মাসে দুবার ব্যবহারের ফলে খুশকি সমস্যা দূরীভূত হবে।

ত্বক ও চুলের যত্নে বেসন

চুল ও ত্বকের জন্য বেসন খুবই উপকারী। ত্বকের যত্নে বেসনের তুলনা নেই। ঠিক তেমনি বেসন চুলের যত্নেও বেশ উপকারি। বহুকাল ধরেই বেসন ত্বক ও চুলের বিভিন্ন সমস্যায় ব্যবহৃত হয়ে আসছে। বেসনের মধ্যে রয়েছে অনেক স্বাস্থ্যকর উপাদান যেগুলো চুলকে যেমন মজবুত এবং স্বাস্থ্যকর করে তোলে ঠিক তেমনি ত্বককে করে তোলে আরো আকষণীয় । এছাড়া চুলের বৃদ্ধি, চুল পড়া বন্ধ, চুলকে পরিষ্কার রাখা, প্রাকৃতিক কন্ডিশনার হয়ে কাজ করে, খুশকি থেকে রক্ষা করে বেসন।ত্বক ও চুলের যত্নে বেসন

ত্বকের যত্নে বেসন

প্রাচীনকালে রমণীরা এখনকার মতো এতো সহজলভ্য প্রসাধনী সামগ্রী ব্যবহারের সুযোগ পেতো না। তাদের ভরসা ছিল ভেষজ উদ্ভিদ এবং রান্নার বিভিন্ন সামগ্রীর ওপরে। এসব উপকরণকে তারা রুপচর্চায় ব্যবহার করতো এবং ভালো ফলও পেতো। আমরা বাঙালীরা যেহেতু ভাজাপোড়া বেশি পছন্দ করি তাই কমবেশি সকলের রান্নাঘরেই মিলবে বেসনের খোঁজ! ত্বক এবং চুলের যত্নে বেসনের ভূমিকা অনস্বীকার্য! বেসন ত্বকের মৃত কোষগুলো দূরীভূত করে ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি করে। নিয়মিত বেসনের ফেইসপ্যাক ব্যবহারের মাধ্যমে ত্বক ফর্সা ও টানটান হয় এবং অবাঞ্ছিত লোমসমূহ দূরীকরণ করা সহজ হয়। চলুন জেনে নেই ত্বকের যত্নে কিভাবে বেসন ব্যবহার করে সুফল লাভ করতে পারবেন।

ত্বক যত্নে বেসন s

ত্বকের যত্নে বেসনের কয়েকটি প্যাকঃ

রোদে পুড়ে মুখে যে কালচে ভাব হয় তা দূরীকরণে বেসন বেশ ভালো ভূমিকা রাখে। ৪ চা চামচ বেসনের সাথে ১ চা চামচ লেবুর রস এবং ১ চা চামচ টক দই মিশিয়ে একটি মিশ্রণ তৈরি করুন। এবার এই মিশ্রণটি মুখে এবং ঘাড়ে লাগিয়ে না শুকানো পর্যন্ত অপেক্ষা করুন। শুকালে ঠান্ডা পানি দিয়ে ভালোমতো ধুয়ে ফেলুন। এটি ত্বককে নরম এবং উজ্জ্বল করবে। ভালো ফল পেতে সপ্তাহে চার পাঁচ দিন ব্যবহার করুন।

ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি করতে ৪ চা চামচ বেসনের সাথে ১ চা চামচ লেবু এবং ১ চা চামচ কাঁচা দুধ একসাথে মিশিয়ে সহজ উপায়ে স্ক্রাব তৈরি করতে পারেন। ত্বকে মাখার পরে শুকোনো পর্যন্ত অপেক্ষা করুন এবং শুকোলে ঠান্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। সপ্তাহে অন্তত একবার ব্যবহার করুন তবে নিজেই সুফল দেখতে পাবেন।

তৈলাক্ত ত্বকের অতিরিক্ত তেল নিরসনে এবং ত্বকের ময়লা দূর করতে নিচের প্যাকটি ভালো ভূমিক রাখবে। ৩ চা চামচ বেসনের সাথে ২ চা চামচ কাঁচা দুধ অথবা ২ চা চামচ টক দই মিশিয়ে মুখে লাগান। ২০ মিনিট পরে ঠান্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।

ব্রণের সমস্যা সমাধানে ব্যবহার করতে পারেন এন্টি পিম্পল বেসন মাস্ক। ২ চা চামচ বেসনের সাথে ২ চা চামচ চন্দন গুঁড়া এবং ১ চা চামচ দুধ মিশিয়ে প্যাক তৈরি করে মুখে লাগান। শুকিয়ে গেলে পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।

ব্রণের কালো দাগ দূর করতে ২ চা চামচ বেসনের সাথে ১ চা চামচ শশার রস এবং ১/২ চা চামচ লেবুর রস মিশিয়ে মুখে লাগান। মিনিট বিশেক রেখে পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। নিয়মিত ব্যবহারে ব্রণের কালচে দাগ আস্তে আস্তে চলে যাবে।

চুলের যত্নে বেসন

চুলের যত্নে বেসন

ঝলমলে দীঘল কালো চুল সব মেয়েদের স্বপ্ন। আমাদের দাদী-নানীরা ত্বক ও চুলের যত্নে ব্যবহার করতেন সহজলভ্য সব উপকরণ আর তাদের মধ্যে বেসন অন্যতম। সুন্দর ও স্বাস্থ্যজ্জল চুল পেতে ব্যবহার করতে পারেন বেসন৷

চুলের যত্নে বেসনের কয়েকটি প্যাকঃ

স্বাস্থ্যকর চুল পেতে ব্যবহার করতে পারেন বেসন দিয়ে তৈরি হেয়ার মাস্ক। একটি পাত্রে ডিমের সাদা অংশ নিন তাতে ২ চা চামচ বেসন, ১ চা চামচ টক দই এবং আধা চা চামচ লেবুর রস মিশিয়ে ঝটপট তৈরি করে ফেলুন হেয়ার মাস্ক। এই মাস্কটি ৩০-৪০ মিনিট চুলে রাখুন এরপর শ্যাম্পু করে ফেলুন। সপ্তাহে অন্তত একবার এই হেয়ার মাস্ক টা ব্যবহার করুন। চুল লম্বা করতে চুলের গোড়া শক্ত হওয়াটা জরুরি! চুলের গোড়া যদি নরম হয় তাহলে চুল পড়া বেড়ে যায় এবং চুলের সৌন্দর্য্য ব্যাহত হয়।

৩ চা চামচ বেসনের সাথে ২ চা চামচ আমন্ড ওয়েল, ৮ চা চামচ টক দই এবং ১ চা চামচ অলিভ ওয়েল মিশিয়ে একটি পেস্ট তৈরি করুন। এই প্যাকটি চুলের গোড়ায় ৪০ মিনিট লাগিয়ে এরপর শ্যাম্পু করে ফেলুন। সপ্তাহে অন্তত দুইবার এই প্যাকটি ব্যবহার করুন।

চুলের শুষ্কতা দূর করতে ৩ চা চামচ বেসনের সাথে ২ চা চামচ আমন্ড ওয়েল, ৮ চা চামচ টক দই, ১ চা চামচ অলিভ ওয়েল এবং ১-২ টি ভিটামিন ই ক্যাপসুল দিয়ে প্যাক তৈরি করে চুলে লাগান। ৩০ মিনিট পরে শ্যাম্পু করে ফেলুন। সপ্তাহে অন্তত একবার এই হেয়ার প্যাক ব্যবহার করুন। চুলের শুষ্কতা দূরীভূত হয়ে চুল হবে ঝলমলে এবং স্বাস্থ্যজ্জল।

মধুর পাঁচটি কার্যকরী ফেসপ্যাক

প্রাচীনকাল থেকেই ঔষধ হিসেবে এবং ত্বকের যত্নে মধু ব্যবহৃত হয়ে আসছে। মধুতে রয়েছে এন্টিঅক্সিডেন্ট, ময়শ্চারাইজার, ভিটামিন বি১, ভিটামিন বি২, ভিটামিন বি৬ যা ত্বকের বলিরেখা, ব্রণসহ আরও হাজারো সমস্যার সমাধান করে থাকে।

ত্বককে সুস্থ রাখতে চাইলে ঘরে বসে ঝটপট বানিয়ে ফেলতে পারেন কিছু প্রয়োজনীয় ফেসপ্যাক:

মধু  ফেসপ্যাক

১. মধু ও চন্দনগুঁড়োর ফেসপ্যাকঃ ১ চামচ মধুর সাথে সমপরিমাণ চন্দনগুঁড়ো ও লেবু মিশিয়ে প্যাক বানিয়ে ফেলুন। এবার চোখ বাদে পুরো মুখে লাগিয়ে নিন। মিনিট বিশেক পরে কুসুম গরম পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।

২. মধু ও অ্যালোভেরার ফেসপ্যাকঃ ২ চা চামচ মধুর সাথে ১ চা চামচ অ্যালোভেরা জেল মিশিয়ে প্যাক তৈরি করুন। এরপর প্যাকটি পুরো মুখে লাগিয়ে নিন। ১৫ মিনিট পরে ঠান্ডা পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলুন। ত্বকের রুক্ষ ভাব দূর করতে এই প্যাকটি অত্যন্ত উপযোগী।

মধু ও অ্যালোভেরার ফেসপ্যাক

৩. মধু ও ডিমের ফেসপ্যাকঃ ২ চা চামচ মধুর সাথে, ১টি ডিম এবং অল্প বেসন মিশিয়ে প্যাক তৈরি করুন। এরপর প্যাকটি ১৫ মিনিট মতো মুখে লাগিয়ে রেখে কুসুম গরম পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।

৪. মধু, অ্যাভোকাডো ও টকদই এর ফেসপ্যাকঃ ১ চা চামচ মধুর সাথে, ১ চা চামচ অ্যাভোকাডো এবং ১ চা চামচ টকদই মিশিয়ে প্যাক তৈরি করে নিন। এবার প্যাকটি মুখে এবং গলায় লাগান। ২০-২৫ মিনিট পরে ঠান্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। অ্যাভোকাডো এবং টকদই দুটোই ত্বক ময়েশ্চারাইজ করতে সাহায্য করবে।

৫. মধু, গ্লিসারিন এবং হলুদের ফেসপ্যাকঃ ১ চা চামচ মধুর সাথে, কয়েক ফোঁটা গ্লিসারিন এবং সামান্য পরিমাণ হলুদ একসাথে মিশিয়ে নিন। এবার পরিষ্কার মুখে সামান্য পানি ছিটিয়ে নিয়ে তারপর প্যাকটি লাগান। শুকিয়ে গেলে ২০ মিনিট পরে কুসুম গরম পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলুন।

চুলের যত্নে অ্যালোভেরার হেয়ারপ্যাক

বহুবছর ধরে ত্বক ও চুলের যত্নে ভেষজ উদ্ভিদ ব্যবহৃত হয়ে আসছে। অ্যালোভেরা এদের মধ্যে অন্যতম। এতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন, প্রোটিন, মিনারেলস যা মাথার ত্বককে পরিষ্কার রাখতে সাহায্য করে, চুলকে করে সুস্থ এবং এর উজ্জ্বলতা বাড়িয়ে দেয় বহুগুণ। আপনি বাড়িতে বসে বানিয়ে ফেলতে পারেন অ্যালভেরার হেয়ারপ্যাক।

চলুন জেনে নেওয়া যাক প্রয়োজনীয় কিছু হেয়ারপ্যাকঃ

১. ক্যাস্টর ওয়েল এবং অ্যালোভেরার হেয়ারপ্যাকঃ ১ কাপ অ্যালোভেরা জেলের সাথে ২ চা চামচ ক্যাস্টর ওয়েল এবং ২ চা চামচ মেথি গুঁড়ো ভালোভাবে মিশিয়ে নিন। তারপর রাতের বেলা এই প্যাকটি স্ক্যাল্পে এবং চুলের গোড়ায় লাগিয়ে একটা তোয়ালে মাথায় পেঁচিয়ে ঘুমিয়ে পড়ুন। ঘুম থেকে উঠে শ্যাম্পু এবং কন্ডিশনার দিয়ে ভালোভাবে চুল ধুয়ে ফেলুন। এই প্যাকটি আপনার চুলের বৃদ্ধিতে দারুণভাবে সাহায্য করবে।

নারকেল তেল, মধু ও অ্যালোভেরার হেয়ারপ্যাক

২. নারকেল তেল, মধু ও অ্যালোভেরার হেয়ারপ্যাকঃ ৫ চা চামচ অ্যালোভেরা জেলের সাথে, ২ চা চামচ মধু ও ৩ চা চামচ নারিকেল তেল ভালোভাবে মিশিয়ে নিন। এবার এই হেয়ারপ্যাকটি চুলের গোড়ায় ম্যাসাজ করে লাগিয়ে ফেলুন। এবার মাথায় শাওয়ার ক্যাপ পড়ে নিন। ৩০ মিনিট পরে ঠান্ডা পানি দিয়ে সুন্দরমতো শ্যাম্পু করে ফেলুন। চুলের শুষ্কতা দূর করে চুলকে মসৃণ রাখতে এই প্যাকটি অতুলনীয়।

৩. ডিম, অলিভ ওয়েল ও অ্যালোভেরার হেয়ারপ্যাকঃ ৪ চা চামচ অ্যালভেরা জেলের সাথে, ৩ চা চামচ অলিভ ওয়েল এবং একটি ডিমের সাদা অংশ ভালোভাবে মিশিয়ে নিন। এরপর প্যাকটি পুরো চুলে এবং মাথার ত্বকে লাগিয়ে ২৫ মিনিট মতো শাওয়ার পরে থাকুন। এরপর শ্যাম্পু করে ফেলুন। সপ্তাহে অন্তত একদিন এই প্যাকটি ব্যবহার করুন তাহলে চুল হবে ঝলমলে এবং আকর্ষণীয়

৪. পেঁয়াজ ও অ্যালোভেরার হেয়ারপ্যাকঃ ১ কাপ পেঁয়াজের রসের সাথে ১ চা চামচ অ্যালোভেরার জেল মিশিয়ে নিন। এবার এই প্যাকটি ভালোভাবে স্ক্যাল্পে লাগিয়ে ফেলুন। ১ ঘন্টা মতো প্যাকটি মাথায় রেখে শ্যাম্পু করে নিন। এই প্যাকটি চুল পড়া রোধ করবে এবং নতুন চুল গজাতেও সাহায্য করবে।

নারকেল তেল, মধু  হেয়ারপ্যাকঃ

৫. জবাফুল ও অ্যালোভেরার হেয়ারপ্যাকঃ ২ চা চামচ জবাফুলের পেস্টের সাথে ১ চা চামচ অ্যালোভেরা জেল ভালোভাবে মিশিয়ে প্যাক তৈরি করুন। এবার প্যাকটি সুন্দরমতো মাথায় লাগিয়ে ৩০ মিনিট পরে শ্যাম্পু করে নিন। এই প্যাকটি অতিরিক্ত চুল পড়া কমাতে সাহায্য করবে।

চুল ও ত্বকের যত্নে জয়তুন তেল

জয়তুন বা জলপাই তেল অত্যন্ত পুষ্টিগুণ সমৃদ্ধ। এতে রয়েছে এন্টিএইজিং উপাদান যা ত্বকে বয়সের ছাপ পড়তে দেয় না! এছাড়া চুল পড়া কমাতে এই তেলের জুড়ি মেলা ভার! ত্বক ও চুলের যত্নে সুপ্রাচীন কাল থেকে ব্যবহৃত হয়ে আসছে জলপাই তেল যা এখন অলিভ অয়েল নামে পরিচিত।

ত্বকের যত্নেঃ

ত্বকের যত্নে জয়তুন তেল

# ১ চা চামচ জলপাই তেলের সাথে ১ টা ডিমের কুসুম এবং কয়েক ফোঁটা লেবুর রস মিশিয়ে প্যাক তৈরি করুন। এবার প্যাকটি মুখে লাগিয়ে মিনিট দশেক পরে কুসুম গরম পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। এই ফেসপ্যাকটি ত্বকের শুষ্কতা দূর করে ত্বককে করে তুলবে মসৃণ। সূর্যের অতিবেগুনী রশ্মি থেকেও রক্ষা করবে আপনার ত্বককে। এককথায় অলিভ অয়েল দারুণ প্রাকৃতিক সান প্রটেক্টর।

# অনেকেরই ব্রণের সমস্যা থাকে। যেটা নিয়ে সারাক্ষণই চিন্তায় থাকতে হয়! এমন সব ব্রণের সমস্যায় জলপাই তেল আদর্শ। ৩ চা চামচ জলপাই তেলের সাথে ৪ চা চামচ লবণ মিশিয়ে প্যাক তৈরি করুন। এই প্যাকটি মিনিট দুয়েক মতো মুখে ম্যাসাজ করুন। সপ্তাহ খানেকের মধ্যেই নিজের চোখেই দেখতে পাবেন ফলাফল!

# বাজারের নাইট ক্রিমের বদলে জলপাই তেল দিয়ে আপনি চাইলেই সহজে বানিয়ে ফেলতে পারেন বাসায় তৈরি নাইট ক্রিম। চলুন ঝটপট জেনে নেওয়া যাক কিভাবে বানাবেন এই বিশেষ নাইট ক্রিম। হাফ কাপ জলপাই তেলের সাথে, ২ চা চামচ পানি এবং ২ চা চামচ ভিনেগার মিশিয়ে প্যাক তৈরি করুন। রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে ত্বকে লাগালে আপনার ত্বক হয়ে উঠবে নরম এবং মসৃণ।

চুলের যত্নেঃ

চুল যত্নে জয়তুন তেল

# শুধুমাত্র ত্বকের যত্নে নয় চুলের যত্নেও জলপাই তেল কার্যকরী ভূমিকা পালন করে থাকে। শ্যাম্পুর পরে কন্ডিশনার হিসেবেও ব্যবহার করতে পারেন জলপাই তেল। শ্যাম্পু করার পরে কয়েক ফোঁটা জলপাই তেল হাতের তালুতে ঘষে পুরো চুলে মেখে তারপর পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।

# চুল পড়ার সমস্যা কম বেশি সবারই থাকে। অনেকসময় যতোটা চুল পড়ে সে তুলনায় নতুন চুল গজায় না! জলপাই তেল নতুন চুল গজাতে সাহায্য করে। প্রথমে চুলে ভালোভাবে জলপাই তেল ম্যাসাজ করে নিন। এরপর ঈষদুষ্ণ পানিতে তোয়ালে ভিজিয়ে সেটা মাথায় পেঁচিয়ে রাখুন৷ কয়েকবার এরকম করার পরে শ্যাম্পু করে ফেলুন৷

# অনেকের চুল রোজকার ধুলোময়লায় রুক্ষ হয়ে যায় এসব থেকে রক্ষা পেতে পারেন জলপাই তেলের মাধ্যমে। ২ চা চামচ জলপাই তেলের সাথে ১ টা ডিমের কুসুম এবং ৫ ফোঁটা লেবুর রস দিয়ে হেয়ারপ্যাক তৈরি করুন। এরপর মিনিট পনের চুলে লাগিয়ে রেখে এরপর শ্যাম্পু করে ফেলুন। চুল হয়ে উঠবে নরম এবং ঝলমলে।

পেঁয়াজের কয়েকটি কার্যকরী হেয়ার প্যাক

চুল পড়া সমস্যা সবারই হয়ে থাকে৷ এ থেকে মুক্তি পেতে কেমিক্যাল এড়িয়ে প্রাকৃতিক উপায় অবলম্বন করলে বেশি ভালো ফল পাওয়া সম্ভব৷ এক্ষেত্রে পেঁয়াজের রস ব্যবহার করতে পারেন। পেঁয়াজের রসে আছে প্রচুর পরিমাণে সালফার যা চুল পড়া রোধ করে এবং নতুন চুল গজাতে সাহায্য করে।

চলুন তবে জেনে নেওয়া যাক পেঁয়াজের কয়েকটি কার্যকরী হেয়ার প্যাক সম্পর্কেঃ

মধু ও পেঁয়াজের রস

১. পেঁয়াজের রসঃ পেঁয়াজের রস এমন একটি উপাদান যেটা আপনারা চাইলেই সরাসরি ব্যবহার করতে পারবেন। এক্ষেত্রে ২/৩ টা বড় পেঁয়াজ ব্লেন্ডারে ব্লেন্ড করে রস বের করে নিন। এবার এই রস মাথার ত্বকে সুন্দর করে লাগিয়ে ৩০ মিনিট পরে শ্যাম্পু দিয়ে চুল ধুয়ে ফেলুন। এই প্যাকটি নিয়মিত ব্যবহার করলে চুল পড়া কমে আসবে।

২. মধু ও পেঁয়াজের রসঃ ২ চা চামচ পেঁয়াজের রসের সাথে ১ চা চামচ লেবুর রস মিশিয়ে প্যাক তৈরি করুন। এই প্যাকটি আপনি খেলেও উপকার পাবেন। প্যাকটি পুরো মাথার ত্বকে ম্যাসাজ করে ১০ মিনিট পরে শ্যাম্পু করে ফেলুন। সুস্থ ও সুন্দর চুল পেতে সপ্তাহে ২ বার ব্যবহার করতে পারেন।

৩. পেঁয়াজের রস ও তেলঃ ৩ চা চামচ পেঁয়াজের রসের সাথে ১ চা চামচ অলিভ অয়েল ও নারিকেল তেল মিশিয়ে প্যাক তৈরি করুন। এই প্যাকটি পুরো চুলে লাগিয়ে ৩০ মিনিট পরে শ্যাম্পু করে ফেলুন। ভালো ফল পেতে সপ্তাহে অন্তত তিনদিন ব্যবহার করুন। শুষ্ক চুলের সমস্যা সমাধানে এই প্যাকটি কার্যকরী।

চুলের যত্নে পেঁয়াজের রস

৪. লেবু ও পেঁয়াজের রসঃ ৩ চা চামচ পেঁয়াজের রসের সাথে ২ চা চামচ লেবুর রস মিশিয়ে প্যাক তৈরি করুন। এই প্যাকটি মাথার ত্বকে আলতো করে ম্যাসাজ করুন। ভালো ফল পেতে সপ্তাহে অন্তত দুইদিন ব্যবহার করুন। এই প্যাকটি চুলের খুশকির প্রবণতা দূর করবে এবং নতুন চুল গজাতে সাহায্য করবে।

৫. আপেল ও পেঁয়াজের রসঃ ২ চা চামচ পেঁয়াজের রসের সাথে ২ চা চামচ আপেলের রস মিশিয়ে প্যাক তৈরি করুন। এই প্যাকটি মাথার ত্বকে লাগিয়ে ২০ মিনিট পরে শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। মাথার ত্বকের মৃত কোষ এবং খুশকি সমস্যার সমাধান নিশ্চিত করতে এই প্যাকটি আদর্শ ভূমিকা পালন করবে।

ত্বকের যত্নে মধু

মধুর ঔষধী গুণের কথা আমরা সকলেই কম বেশি জানি! ত্বকের আদ্রতা ধরে রেখে, ত্বকের বলীরেখা কমিয়ে, ত্বককে টানটান করতে এবং ত্বকের মসৃণতা বজায় রাখতে মধু অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে! মধুতে রয়েছে এন্টিঅক্সিডেন্টসহ আরও নানান পুষ্টি উপাদান।

চলুন জেনে নেওয়া যাক ত্বকের যত্নে মধুর ভূমিকা কতোটা এবং কীভাবে মধু ব্যবহার করা যায়ঃ

## ত্বকের ময়লা পরিষ্কার করতে মধুঃ মধু হচ্ছে প্রাকৃতিক মশ্চেয়ারাইজার। মধুতে থাকে এনজাইম যা ত্বকের ময়লা পরিষ্কার করে। এছাড়াও মধুতে থাকে এন্টিব্যাকটেরিয়াল উপাদান এবং জজবা তেল যা ত্বককে ক্ষতিসাধনকারী ব্যাকটেরিয়ার হাত থেকে রক্ষা করে। উপকরণ ও পদ্ধতিঃ ২ চা চামচ নারকেল তেলের সাথে ১ চা চামচ মধু মিশিয়ে চোখ বাদে মুখে ভালোভাবে মালিশ করুন। মিনিট সাতেক পরে কুসুম গরম পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলুন। এতে মুখের ময়লা দূরীভূত হবে এবং ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি পাবে।

ত্বকের নমনীয়তা বৃদ্ধিতে মধু

## ত্বকের নমনীয়তা বৃদ্ধিতে মধুঃ ত্বকের নমনীয়তা বজায় রাখতে মধুর ভূমিকা অনস্বীকার্য। ত্বককে ময়েশ্চারাইজ করতে এর জুড়ি নেই। মধু বাতাসের জলীয়কণা ত্বকের ভেতরে ধরে রেখে ত্বককে নমনীয় করে। উপকরণ ও পদ্ধতিঃ প্রতিদিন ১ চা চামচ পরিমাণ মধু শুষ্ক ও পরিষ্কার ত্বকে লাগিয়ে রাখুন। ১৫-২০ মিনিট পরে হালকা কুসুম গরম পানি দিয়ে ত্বক ধুয়ে ফেলুন। ত্বকের নমনীয়তা বজায় রেখে ত্বক হবে কোমল, মসৃণ এবং সুন্দর।

## ত্বকের কালো দাগ দূর করতে মধুঃ মধুতে থাকে এন্টিইনফ্ল্যামটরি ও এন্টিব্যাকটেরিয়াল উপাদান যা ত্বকের কালো দাগ দূরীভূত করে টিস্যু পূর্ণগঠনে সাহায্য করে। এর ফলে ত্বকের স্বাভাবিক উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি পায়। উপকরণ ও পদ্ধতিঃ ১ চা চামচ মধুর সাথে সমপরিমাণ জলপাইয়ের তেল মিশিয়ে নিন। ত্বকের যে স্থান কালো দাগ বা ক্ষতচিহ্ন আছে সে স্থানে ২/৩ মিনিট মতো হাত ঘুরিয়ে মালিশ করুন। এরপর গরম তোয়ালে মুখে চেপে ধরে রাখুন ঠান্ডা না হওয়া পর্যন্ত। এভাবে নিয়মিত ব্যবহারে ত্বকের দাগ ধীরে ধীরে কমে আসবে।

ত্বকের কালো দাগ দূর করতে মধু

## ব্রণ কমাতে মধুঃ সববয়সী নারীপুরুষেরই ব্রণের সমস্যা হয়ে থাকে। মধুতে থাকে এন্টিফাঙ্গাল ও এন্টিব্যাকটেরিয়াল উপাদান যা ত্বককে ব্রণের হাত থেকে রক্ষা করে। ব্রণের স্থানে ১৫-২০ মিনিট মতো বিশুদ্ধ মধু লাগিয়ে রাখুন। এরপর কুসুম গরম পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। ব্রণের জ্বালাপোড়া কমবে এবং ত্বককে সুস্থ দেখাবে।

চুলের যত্নে পেঁয়াজের রস

রোজকার নানান ব্যস্ততায় চুলের যত্ন একদমই নেওয়া হয়ে ওঠে না। চুলের যত্নে ঘরোয়া সমাধান পেতে চাইলে ব্যবহার করতে পারেন পেঁয়াজের রস। পেঁয়াজের রস চুলের নানাবিধ সমস্যা থেকে মুক্তি দেবে।

আসুন চুলের যত্নে কিভাবে পেঁয়াজের রস ব্যবহার করবেন তা জেনে নেওয়া যাকঃ

চুলের বৃদ্ধি ত্বরান্বিত করতে

১. খুশকি দূর করতেঃ ২ চা চামচ মেথি আগের রাতে ভিজিয়ে রাখুন। পরদিন মিহি করে বেটে নিন, এবার এই মিশ্রণে ২ চা চামচ পেঁয়াজের রস মিশিয়ে প্যাক তৈরি করুন। এই হেয়ার প্যাকটি মাথার ত্বকে লাগিয়ে আধা ঘন্টা পরে ঠান্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। সপ্তাহে অন্তত একদিন ব্যবহার করলে খুশকি দূর হবে।

২. চুলের বৃদ্ধি ত্বরান্বিত করতেঃ ৩ চা চামচ পেঁয়াজের রসের সাথে ২ চা চামচ অ্যালোভেরা জেল মিশিয়ে প্যাক তৈরি করুন। এই হেয়ার প্যাকটি মাথার ত্বকে লাগিয়ে ম্যাসাজ করুন। মিনিট দশেক পরে ধুয়ে ফেলুন। সপ্তাহে অন্তত দুইদিন ব্যবহার করলে ভালো ফল পাবেন। এই প্যাকটি মাথার ত্বকের চুলকানি দূর করবে, চুলকে বাড়ন্ত করবে।

৩. চুলকে সতেজ করতেঃ ১ চা চামচ পেঁয়াজের রসের সাথে ২ চা চামচ সবুজ কলাই পাউডার মিশিয়ে প্যাক তৈরি করুন। এই হেয়ার প্যাকটি পুরো চুলে লাগিয়ে রাখুন। শুকিয়ে গেলে পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। এই প্যাকটি সপ্তাহে ২ বার ব্যবহার করলে চুল নবজন্ম লাভ করবে। চুল হয়ে উঠবে চনমনে।

চুলকে উজ্জ্বল করতে

৪. চুলকানি কমাতেঃ ১ চা চামচ লেবুর রসের সাথে ১ চা চামচ পেঁয়াজের রস মিশিয়ে প্যাক তৈরি করুন। এই হেয়ার প্যাকটি মাথার ত্বকে লাগিয়ে ২৫ মিনিট পরে ধুয়ে ফেলুন। সপ্তাহে অন্তত তিনদিন ব্যবহার করলে মাথার ত্বকে যদি চুলকানির সমস্যা থাকে তবে তা দূরীভূত হবে এবং খুশকি সমস্যার সমাধানও হয়ে যাবে।

৫. চুলকে উজ্জ্বল করতেঃ ৩ চা চামচ পেঁয়াজের রসের সাথে ১ চা চামচ অলিভ অয়েল মিশিয়ে প্যাক তৈরি করুন। প্যাকটি পুরো চুলে ও মাথার ত্বকে লাগিয়ে গরম তোয়ালে দিয়ে কিছুক্ষণ মাথা পেঁচিয়ে রাখুন। এরপর শ্যাম্পু দিয়ে মাথা ধুয়ে ফেলুন। সপ্তাহে অন্তত একদিন ব্যবহার করলে চুলের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি পাবে। চুল হয়ে উঠবে শক্ত ও মজবুত।

৬. চুলের আদ্রতা ধরে রাখতেঃ ৩ চা চামচ পেঁয়াজের রসের সাথে ৫ চা চামচ নারিকেল তেল ও ১ চা চামচ লেবুর রস মিশিয়ে প্যাক তৈরি করুন। প্যাকটি মাথার ত্বকে লাগিয়ে আধাঘন্টা পরে শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। সপ্তাহে অন্তত দুইদিন ব্যবহার করলে চুলের স্বাভাবিক আদ্রতা বজায় থাকবে। চুল হবে সতেজ ও সুন্দর।

মেহেদীর কয়েকটি কার্যকরী হেয়ার প্যাক

চুলের নানান সমস্যায় এখনকার তরুণী থেকে বৃদ্ধ সবাই জর্জরিত। চুলের ঠিকঠাক যত্ন না নেওয়ার ফলে চুল পড়া আশংকাজনক হারে বেড়ে যাওয়া সহ আরও অনেক ধরনের সমস্যার কবলে পড়তে হয়। এসব সমস্যা থেকে মুক্তি দেবে মেহেদীর তৈরি হেয়ার প্যাক। ঘরে বসেই বানিয়ে ফেলতে পারেন এসব হেয়ার প্যাক।

চলুন জেনে নেওয়া যাক মেহেদীর তৈরি কয়েকটি কার্যকরী হেয়ার প্যাক সম্পর্কেঃ

চুলের যত্নে মেহেদী

১. মেহেদী ও পাকা কলাঃ বাটা মেহেদীর সাথে পাকা কলা চটকে প্যাক তৈরি করুন। এই প্যাকটি এবার চুলে লাগিয়ে রাখুন না শুকানো পর্যন্ত। শুকিয়ে গেলে শ্যাম্পু করে ফেলুন। এই হেয়ার প্যাকটি ব্যবহারের ফলে চুল হয়ে উঠবে উজ্জ্বল ও কমনীয়।

২. মেহেদী, টকদই ও ডিমঃ একটি ডিমের সাদা অংশের সাথে ২ চা চামচ বাটা মেহেদী ও ১ চা চামচ টকদই মিশিয়ে প্যাক তৈরি করুন। এই হেয়ারপ্যাকটি পুরো চুলে লাগিয়ে ১ ঘন্টা পরে শ্যাম্পু করে ফেলুন। চুলের পুষ্টি নিশ্চিত করতে এই প্যাকটি আদর্শ ভূমিকা পালন করে। এই প্যাকটি চুলকে কন্ডিশনিং করতে সাহায্য করবে।মেহেদীর হেয়ার প্যাক

৩. মেহেদী, জবা, নারকেল তেল ও লেবুর রসঃ ২ চা চামচ মেহেদী বাটার সাথে, ১ টি জবা ফুল বাটা, ২ চা চামচ নারিকেল তেল ও সমপরিমাণ লেবুর রস মিশিয়ে প্যাক তৈরি করুন। এই প্যাকটি পুরো চুলে লাগিয়ে ঘন্টাখানেক পরে শ্যাম্পু করে ফেলুন। এই প্যাকটি চুল পড়া রোধ করবে, চুল কালো করবে, খুশকি সমস্যা কমাবে এবং যাবতীয় ধূলোময়লা থেকে চুলকে রক্ষা করবে।

৪. মেহেদী ও কফি গুঁড়োঃ বাটা মেহেদীর সাথে ২ চা চামচ কফির গুঁড়ো মিশিয়ে প্যাক তৈরি করুন। এই প্যাকটি পুরো চুলে লাগিয়ে ঘন্টা দুয়েক পরে ঠান্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। চুলে লালচে আভা আনতে এই প্যাকটি বেশ কার্যকর। পাকা চুল ঢাকতে এই প্যাকটি বেশ কাজে দিবে।

৫. মেহেদী, নারকেল তেল ও মুলতানি মাটিঃ ২ চা চামচ বাটা মেহেদীর সাথে, ১ চা চামচ নারকেল তেল ও ২ চা চামচ মুলতানি মাটি মিশিয়ে প্যাক তৈরি করুন। এই প্যাকটি পুরো চুলে লাগিয়ে ঘন্টাখানেক রেখে শ্যাম্পু করে ফেলুন। চুল ঝরঝরে, সুন্দর ও পরিষ্কার রাখতে এই হেয়ার প্যাকটি অসাধারণ।

আলুর পাঁচটি কার্যকরী ফেসপ্যাক

আলু আমাদের রান্নাঘরের সবচেয়ে কমন সবজির একটি। চোখের নীচের কালো ভাব দূর করে ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি করতে আলুর জুড়ি নেই। শুধু তাই নয় ত্বকে যেসব ব্রণের দাগ থাকে সেসব দূর করতেও আলু কার্যকরী। বয়সের ছাপ ফেলা থেকেও ত্বককে সুরক্ষিত রাখে এই আলু। কি অবাক হচ্ছেন বুঝি! অবাক হওয়াটাই অবশ্য স্বাভাবিক এই আলুর যে এতো গুণ আছে তা নিশ্চয় আগে জানা ছিল না!

এবার আসুন জেনে নেই আলুর ৫ টি ভিন্নধর্মী ব্যবহার এবং ফেসপ্যাকঃ

১. ত্বককে দাগ মুক্ত করতে আলুঃ তৈলাক্ত ত্বকের সমস্যা দূর করতে আলুর জুড়ি মেলা ভার! তৈলাক্ত ত্বকে ব্রণের প্রবণতা বৃদ্ধি পায় তাই দাগ হওয়ার সম্ভাবনাও কিছুটা বৃদ্ধি পায়। এছাড়াও ত্বক যদি শুষ্ক হয় তবে নিচের ফেসপ্যাকটি লাগানোর পরে ময়েশ্চারাইজার লাগিয়ে নিবেন তবে শুষ্কভাব চলে যাবে। উপকরণ ও পদ্ধতিঃ প্রথমে একটি অর্ধেক পরিমাণ আলু ব্লেন্ডারে ব্লেন্ড করে নিন এবার এরসাথে ১ চামচ গোলাপজল এবং ১ চা চামচ লেবু মিশিয়ে নিন। এবার প্যাকটি ১৫ মিনিট মুখে লাগিয়ে রাখুন। তারপর ঠান্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। ভালো ফল পেতে সপ্তাহে অন্তত তিনদিন নিয়মিত ব্যবহার করুন।

ত্বককে দাগ মুক্ত করতে আলু

২. ত্বককে পরিষ্কার রাখতে আলুঃ প্রতিদিনের দূষণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় আমাদের ত্বক। তাই ত্বককে পরিষ্কার রাখতে, ব্রণ কমাতে আলুর ব্যবহার করতে পারেন। উপকরণ ও পদ্ধতিঃ প্রথমে ১টা আলু ব্লেন্ডারে ব্লেন্ড করে নিন এবার এরসাথে ১ চা চামচ গোলাপজল এবং ২ চা চামচ মুলতানি মাটি ভালোভাবে মিশিয়ে নিন। এবার মুখে ও গলায় ২০ মিনিট মতো লাগিয়ে রেখে ঠান্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। সপ্তাহে অন্তত দুইদিন ব্যবহার করুন।

৩. ত্বকের বলিরেখা কমাতে আলুঃ একটা বয়সের পরে ত্বকে বলিরেখা দেখা দেয়। ত্বকে বয়সের ছাপ পড়ে যায়, ত্বক ঝুলে পড়ে, ত্বকের এমন সমস্যা সমাধানে আলু বেশ ভালো ভূমিকা রাখে। উপকরণ ও পদ্ধতিঃ ব্লেন্ড করা আলুর সাথে ১টা ডিমের সাদা অংশ মিশিয়ে নিন। এবার এই প্যাকটি মুখে এবং গলায় ১৫ মিনিট লাগিয়ে রাখুন। তারপর পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। সপ্তাহে অন্তত একবার ব্যবহার করুন। ভালো ফল পাবেন।

ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি করতে আলু

৪. ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি করতে আলুঃ ত্বকে অনেক সময় একটা ক্লান্তিকর ভাব দেখা যায়। প্রতিদিনের কাজের চাপে মুখেও সেই ভাবটা ফুটে ওঠে। এমন ক্লান্তিভাব দূর করে ত্বককে উজ্জ্বল করতে আলুর জুড়ি নেই। উপকরণ ও পদ্ধতিঃ ১ টা হাফ ব্লেন্ড করা আলুর সাথে ১ চা চামচ হলুদ বাটা মিশিয়ে নিন। এবার পুরো প্যাকটি ভালোমতো মুখে ও গলায় লাগিয়ে রাখুন। ১৫/২০ মিনিট পরে ঠান্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি পাবে। সপ্তাহে অন্তত দুইদিন ব্যবহার করুন।

৫. অ্যান্টি ট্যান ফেসপ্যাকঃ ত্বকের রোদে পোড়া ভাব দূর করতে এই ফেসপ্যাকটি কার্যকরী। স্কিনকে সুস্থ ও স্বাভাবিক রাখতে এর ভূমিকা অনস্বীকার্য। উপকরণ ও পদ্ধতিঃ টমেটো ও আলু একসাথে ব্লেন্ড করে নিন তাতে পরিমাণ মতো টকদই মেশান এবার গলায় ও মুখে ২০ মিনিট লাগিয়ে রাখুন। এরপর ঠান্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। ত্বকের রোদে পোড়া ভাব চলে যাবে।